লগইন করতে গিয়ে পাসওয়ার্ড মনে পড়ছে না—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। আবার তাড়াহুড়োয় আসল সাইটের মতো দেখতে কোনো ভুয়া পাতায় পাসওয়ার্ড লিখে দেওয়ার ঝুঁকিও থাকে। Passkey এই দুই সমস্যার একটি কার্যকর বিকল্প। সমর্থিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে এটি ব্যবহার করলে ফোন আনলক করার মতো করেই অ্যাকাউন্টে ঢোকা যায়।
তবে Passkey চালু করার আগে কয়েকটি বিষয় বোঝা দরকার: এটি কোথায় থাকে, কীভাবে সুরক্ষা দেয় এবং ফোন হারালে অ্যাকাউন্টে ফিরবেন কীভাবে।
Passkey আসলে কী?
Passkey হলো নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট বা অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র। এটি পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখার আরেকটি নাম নয়।
এর পেছনে কাজ করে পাবলিক-কী ক্রিপ্টোগ্রাফি। সহজভাবে বললে, এখানে দুটি সম্পর্কিত ডিজিটাল চাবি থাকে। পাবলিক কী থাকে সংশ্লিষ্ট সেবার সার্ভারে। আর প্রাইভেট কী সুরক্ষিত থাকে আপনার ডিভাইস বা Passkey ম্যানেজারের ব্যবস্থায়। লগইনের সময় প্রাইভেট কী প্রকাশ না করেই পরিচয় যাচাই করা হয়।
Google Developers-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সার্ভারে রাখা পাবলিক কী একা পেয়ে কোনো আক্রমণকারী আপনার হয়ে লগইন করতে পারে না।
পাসওয়ার্ডের চেয়ে সুবিধা কোথায়?
পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে সেটি মনে রাখতে বা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার থেকে বসাতে হয়। Passkey-তে সাধারণত ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আনলক কিংবা ডিভাইসের পিন দিয়েই সাইন-ইন অনুমোদন করা যায়।
নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি হলো ফিশিং প্রতিরোধ। আপনি ভুল করে নকল ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড লিখে দিতে পারেন। কিন্তু Passkey ব্যবহারের সময় ব্রাউজার বা অপারেটিং সিস্টেম সংশ্লিষ্ট সেবার পরিচয় যাচাই করে। তাই অন্য ডোমেইনে বানানো ভুয়া লগইন পেজে আসল সেবার Passkey ব্যবহার করা যায় না।
অবশ্য Passkey সব ধরনের অনলাইন প্রতারণা ঠেকায় না। কেউ ভুল বুঝিয়ে টাকা পাঠাতে বললে বা আপনার আনলক করা ফোন ব্যবহার করলে ঝুঁকি থেকেই যায়।
আঙুলের ছাপ কি ওয়েবসাইট পেয়ে যায়?
না। Passkey দিয়ে লগইনের সময় আঙুলের ছাপ বা মুখের তথ্য ওয়েবসাইটে পাঠানো হয় না। বায়োমেট্রিক যাচাই ডিভাইসেই হয়; ওয়েবসাইট পায় পরিচয় যাচাইয়ের ডিজিটাল প্রমাণ।
FIDO Alliance-এর ব্যাখ্যাতেও বলা হয়েছে, বায়োমেট্রিক তথ্য ও তার প্রক্রিয়াকরণ ডিভাইসেই থাকে। আর বায়োমেট্রিক সুবিধা ব্যবহার না করেও সমর্থিত ব্যবস্থায় পিন দিয়ে Passkey ব্যবহার করা যায়।
Google অ্যাকাউন্টে Passkey চালু করবেন যেভাবে
-
নিজের ফোন বা কম্পিউটারে স্ক্রিন লক চালু রাখুন। অপারেটিং সিস্টেম ও ব্রাউজার হালনাগাদ আছে কি না দেখে নিন।
-
Google অ্যাকাউন্টের Passkey সেটিংসে যান। একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে সঠিকটি বেছে নিন।
-
প্রয়োজন হলে পরিচয় যাচাই করুন। Passkey তৈরির অপশন থাকলে সেটি নির্বাচন করে পর্দার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
-
কোন ডিভাইস বা Passkey ম্যানেজারে Passkey সংরক্ষিত হচ্ছে, খেয়াল করুন। পরেরবার সাইন-ইনের সময় দেখানো নির্দেশনা মেনে সেটি ব্যবহার করুন।
ডিভাইসভেদে মেনু ও প্রয়োজনীয় শর্ত আলাদা হতে পারে। বিস্তারিত পাওয়া যাবে Google-এর অফিসিয়াল সহায়িকায়। মনে রাখবেন, Google অ্যাকাউন্টে Passkey যোগ করলে আগের পাসওয়ার্ড বা রিকভারি পদ্ধতি মুছে যায় না।
ফোন হারালে কি অ্যাকাউন্টও হারাবেন?
অবশ্যই হারাবেন—এমন নয়। আবার কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই সব ফিরে পাবেন, সেটিও ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কিছু Passkey একই Passkey ম্যানেজারের মাধ্যমে আপনার অন্য সমর্থিত ডিভাইসে সিঙ্ক হয়। কিছু Passkey আবার নির্দিষ্ট ডিভাইস বা হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি কীতেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে অ্যাকাউন্টে ফেরার পথ নির্ভর করবে Passkey কোথায় রাখা হয়েছে এবং সেবাটির রিকভারি ব্যবস্থা কী, তার ওপর।
আগেই রিকভারি ইমেইল ও ফোন নম্বর হালনাগাদ রাখুন। সেবা সমর্থন করলে বিকল্প Passkey বা নিরাপদ ব্যাকআপ সাইন-ইন পদ্ধতি রাখুন। Passkey থাকা ডিভাইস হারালে Google অ্যাকাউন্টের সেটিংস থেকে সংশ্লিষ্ট Passkey-টি সরিয়ে দিন।
চালু করার আগে তিনটি সতর্কতা
শেয়ার করা ডিভাইসে Passkey তৈরি করবেন না। Google সতর্ক করে, Passkey থাকা ডিভাইস অন্য কেউ আনলক করতে পারলে আপনার অ্যাকাউন্টেও ঢুকতে পারে।
স্ক্রিন লকের পিন গোপন রাখুন। সহজে অনুমান করা যায় এমন পিন এড়িয়ে চলুন এবং অপরিচিত কাউকে আনলক করা ফোন দেবেন না।
বিকল্প লগইন ব্যবস্থাও সুরক্ষিত রাখুন। পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢোকার সুযোগ থাকলে সেটি শক্তিশালী ও অন্য অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড থেকে আলাদা রাখুন। রিকভারি ইমেইলের নিরাপত্তাও জরুরি।
Passkey ব্যবহারের শুরুটা জটিল হওয়ার দরকার নেই। নিজের পরিচিত একটি সমর্থিত অ্যাকাউন্ট বেছে নিন। শুধু চালু করার আগে বুঝে নিন—Passkey কোথায় থাকবে এবং ডিভাইস হারালে আবার ঢুকবেন কীভাবে।

No comments:
Post a Comment